কবিতা

বুধবার, ২ অক্টোবর, ২০২৪

 সংস্কৃতি

সংস্কৃতি আজ বদলে গেছে

বদলে গেছে সবই

ভিনদেশি গান খ্রিস্টি-কালচার 

এই প্রজন্মের হবি।

হা-ঁডু-ডু আর দাঁড়িয়াবান্দা

খেলে না আজ কিশোর

ফেইসবুক আর ইউটিউব

মন কেড়েছে শিশুর।

এখন তো আর বিয়েবাড়ি

গায় না বিয়ের গীত 

যায় না শোনা কোথাও

উচ্চাঙ্গ সংগীত। 

পালকিচড়ে নববধূ 

যায় না শ্বশুর বাড়ি

যানবাহন বদলে গেছে

দেখি না ঘোড়ার গাড়ি। 

এখন তো আর কারও বাড়ি

হয় না পুথি পাঠ 

এই প্রজন্মের মন কেড়েছে 

পপ সম্রাট ।

লেটু গানের আসর এখন 

হয় না কোনখানে 

কত মধুর সুর ছিলো

ভাটিয়ালি গানে ।


 পাড়ার ছেলে 

পাড়ার ছেলে নষ্ট হলে

কার কী যায় আসে

ভালো ছেলে ঘুরে দেখ 

নষ্ট ছেলের আশপাশে ।

নিরাপদে যায় না থাকা 

নষ্ট ছেলের উৎপাতে

পিতা-মাতা প্রতিবেশির 

আছে অনেক দায় তাতে।

সন্ত্রাসী আর পাচার কাজে

হচ্ছে তারা লাটিয়াল 

অস্ত্র নিয়ে ধরা পড়লে

দেখ চেয়ে তাদের হাল ।

সন্ত্রাসী আর মানুষ খুনে

তাদের অনেক হাত পাকা 

সহিংসতায় জড়িয়ে যায় 

হামেশা তাই যায় দেখা ৷

সুখী সমাজ গড়তে হলে

রুখতে হবে এদের 

নিজের ছেলে পাড়ার ছেলে

আছে এমন যাদের ।



 কোচিং বাণিজ্য 

আয়রে খোকা আয়রে খোকী

বিদ্যালয়ে যাই 

বিদ্যাশিক্ষার বিকল্প পথ

অন্য কোথাও নাই । 

সারাদেশে কোচিং সেন্টার

আছে কত নামে

শিক্ষা নিয়ে বানিজ্য হয় 

অনেক টাকা দামে ।

স্কুল কলেজে পাঠ দানে 

আগ্রহী  নন গুরু

কোচিং খোলে ব্যবসা তিনি 

করছেন তাই শুরু।


 নদী বাঁচাও 

নদী রক্ষার আইন করেছে

দেশের সরকার যদিও 

দখলদার ভূমি দস্যু 

করছে দখল নদীও ।

নদীর তীর দখল করে 

বানায় ঘর-বাড়ি

খরস্রোতা  নদী এখন 

হেঁটেই দেয় পারি।

আগাম বন্যা তীব্র খড়ায়

ফসল হয় নষ্ট 

যারা জমি চাষ করে খায়

তাদের বাড়ে কষ্ট । 

নদী শাসন বন্ধ হবে

বিবেক জাগে যদি 

দেশের ভালো চাইলে 

বাঁচাতে হবে নদী।

তিস্তা নদীর ন্যায্য পানি 

আমরা কি আর পাই ? 

এখন থেকে পানির 

ন্যায্য হিস্যা আমরা চাই ।


 ফুলের মেলা

শরৎ শেষে হেমন্তকাল

আসল সবার মাঝে

গাছের ডালে শিউলি ফোটে

সাজল দারুণ সাজে।

বকুল ফুলের শুভ্র রূপে

সেজে আছে ডালপালা

রমণী  তাই বসে গাঁথে

বকুল ফুলের সেই মালা।

গন্ধরাজের শুরভীতে

মন হয়ে যায় আনমনা

পাকা  ধানের সোনালী  রূপ

দেখে ভাবি তাই সোনা।


 শ্রমিক

কষ্টে যাদের জীবন কাটে

রোদ বৃষ্টি ঝড়ে

পেট ভরে পায় না খেতে

থাকে অনাহারে।

ক্ষেত খামারে কাজ করে

করে জমি চাষ

অনাহারে অর্ধাহারে

কাটে  বারো মাস।

কেউ আবার কুলি মজুর

টানে পরের বোঝা

জীবন তাদের বড় কঠিন

নয় তেমন সোজা।

শ্রমজীবী এসব লোকের

নেই লেখা পড়া

এই পৃথিবীর অনেক কিছু

তাদের হাতে গড়া।



 



বর্ষা-বাদল

আষাঢ় মাসে বাদল নামে

সারাদিন বৃষ্টি হয়

খেটে খাওয়া মানুষগুলোর

তখন বড় কষ্ট হয়। 

মেঘ বৃষ্টি বর্ষা বাদল

প্রয়োজন তার জানি

অতিবৃষ্টি হলে জমে

সবখানেতে পানি।

অতিবৃষ্টি অনাবৃষ্টি কারও

মোটেও কাম্য নয়

পাপচার বাড়লে দেশে

তবেই নাকি এমন হয়।

নূহ (আঃ) জাতি ধ্বংস হয়

কালের মহা প্লাবনে

ইতিহাসের কঠিন সত্য

সকল মানুষ তাই জানে।

অনাবৃষ্টি তীব্র গরম

ফেরাউন হয় নাজেহাল

অবশেষে বৃষ্টি হলেও

পানি দেখে রক্তলাল।